সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালা সংলগ্ন এক অঞ্চলে সম্প্রতি ‘সোসাইটি অফ সেন্ট পাইস এক্স’ (SSPX) নামক একটি বিদ্রোহী ধর্মীয় গোষ্ঠীর উদ্যোগে হাজার হাজার অনুসারীর উপস্থিতিতে নতুন বিশপ নিয়োগের একটি বিতর্কিত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক চার্চের অভ্যন্তরে চলমান মতাদর্শিক সংঘাত ও বিভক্তির বিষয়টি পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। ক্যাথলিক চার্চের মূলধারার অনুশাসন ও সংস্কার থেকে বিচ্ছিন্ন এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘকাল ধরেই ভ্যাটিকানের বিভিন্ন নীতিমালার বিরোধিতা করে আসছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে পোপ ফ্রান্সিস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চার্চের অভ্যন্তরে এ ধরনের বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিকদের মধ্যে বিভাজন বা ‘স্কিজম’ (schism) বা মতপার্থক্যের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। পোপের মতে, চার্চের ঐক্যের বিপরীতে গিয়ে এ ধরনের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ খ্রিস্টীয় আদর্শের পরিপন্থী এবং এটি বিশ্বাসের মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিলের সংস্কারের বিরোধিতা করে আসা এই গোষ্ঠীটি রক্ষণশীল ধর্মীয় চর্চার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে থাকে, যা বর্তমান ভ্যাটিকান প্রশাসনের আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার সাথে সাংঘর্ষিক।
উল্লেখ্য যে, সোসাইটি অফ সেন্ট পাইস এক্স-এর সাথে রোমান ক্যাথলিক চার্চের সম্পর্কের টানাপোড়েন বহু দশকের পুরনো। ১৯৬৯ সালে আর্চবিশপ মার্সেল লেফেভরে এই গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেন। তারা মূলত ল্যাটিন ভাষায় প্রার্থনাসহ প্রথাগত ক্যাথলিক রীতিনীতি বজায় রাখার পক্ষে কাজ করে। ভ্যাটিকানের সাথে তাদের আইনি ও আধ্যাত্মিক বিবাদ নিরসনে অতীতে অনেকবার আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, বিশপ নিয়োগের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে সমঝোতার পথ আরও সংকীর্ণ হয়েছে। পোপ ফ্রান্সিস বারবার চার্চের ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানালেও, কট্টরপন্থী এই গোষ্ঠীটি তাদের নিজস্ব বলয় তৈরি করে চার্চের অভ্যন্তরে এক ধরনের সমান্তরাল কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ক্যাথলিক চার্চের ভেতরকার রক্ষণশীল বনাম সংস্কারপন্থী লড়াইয়ের একটি বহিঃপ্রকাশ। ভ্যাটিকান এখন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব। পোপের কঠোর অবস্থান এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অনড় মনোভাব আগামী দিনে ক্যাথলিক বিশ্বের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে