ভোরের শান্ত পরিবেশকে স্তব্ধ করে দিয়ে আজ ভোরে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ও সংলগ্ন অঞ্চলে পরপর তিন দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এই ভূকম্পনে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় ভোরবেলায় যখন অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তথ্যমতে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলাতেও এর মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলেও, এই ঘটনা জনমনে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। বিশেষ করে ‘সিসমিক জোন’ বা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় এ ধরনের কম্পন নিয়মিত বিরতিতে ঘটছে, যা ভূতত্ত্ববিদদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের এই তিন দফা কম্পন ছিল অপেক্ষাকৃত স্বল্পস্থায়ী, তবে ঘন ঘন কম্পন বড় ধরনের কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় বহুতল ভবন থেকে দ্রুত খোলা জায়গায় নেমে আসা, লিফট ব্যবহার না করা এবং শক্ত কোনো আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নেওয়ার মতো জরুরি সতর্কতাগুলো মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে দীর্ঘদিনের যে শঙ্কা রয়েছে, তা আবারও সামনে চলে এসেছে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে এই ভূকম্পনগুলো অনুভূত হচ্ছে। যেকোনো ধরনের বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। আজকের এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে