অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দুর্নীতি তদন্তের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দুর্নীতি তদন্তের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার রাতে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই অস্থির সময়ে দুর্নীতি কোথায়, কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) যথাযথ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাবেন। টিআইবির প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দায়মুক্তির কোনো সুযোগ নেই এবং সবকিছুর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলকে ‘লুটপাটের অর্থনীতি’ বা ‘ইকোনমিকস অব প্লান্ডারিং’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে ব্যাংক খাত, উন্নয়ন প্রকল্প এবং কর অব্যাহতির আড়ালে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে। তিনি ‘স্টেট অব দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি (২০০৯-২০২৩)’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান সরকার নতুন অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি ‘নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ বা নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সূচনা, যেখানে দরিদ্র মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি, যার ফলে বাজেট পরবর্তী বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কোনো ঢেউ দেখা যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। অপরাধ নথিভুক্ত হওয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হলো জনগণের মধ্যে মামলা করার প্রবণতা বেড়েছে, যা অপরাধ বাড়ার লক্ষণ নয় বরং ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থার বহিঃপ্রকাশ। পরিশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই বাজেট দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এবং সংসদীয় সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হবে।

এছাড়াও

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের বিরুদ্ধে শিশুহত্যার বিচারের দাবি খামেনির

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের বিরুদ্ধে শিশুহত্যার বিচারের দাবি খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে শিশুহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং আগ্রাসনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *