ঢাকার আশুলিয়ার তুরাগ নদে ২২ জুন ঘটে যাওয়া এক রহস্যময় ঘটনায় নিখোঁজ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মো. সুমন (১৭) ও আরিফ হাসান রাকিব (২০) আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলে তাদের স্বজনরা দাবি করেছেন। ঘটনার দিন আশুলিয়ার গরুর হাট ট্রলার ঘাটে পুলিশি অভিযানের সময় ট্রলার থেকে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। ঘটনার দিনই পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে, তবে পুলিশের এজাহারে এই ঘটনার বর্ণনা আর নিহতের স্বজনদের বর্ণনায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
নিহত সুমনের খালু মো. জুয়েল বাবু জানান, সুমন এবং তার সঙ্গীরা মিছিল শেষে ট্রলারযোগে আশুলিয়া ঘাটে পৌঁছালে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। প্রাণভয়ে অনেকে নদীতে ঝাঁপ দেন, যার মধ্যে সুমন সাঁতার না জানায় তলিয়ে যায়। এদিকে, পুলিশ সুপারের দাবি, ঘটনাটি নিছকই দুর্ঘটনা। পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকা জেলায় গত তিন মাসে ১৭০টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে, যার মধ্যে এই ঘটনাগুলোও দুর্ঘটনাজনিত।
ঘটনার দিন গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের আইনজীবীর দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, তুরাগ এলাকায় মিছিলের সময় পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের ধাওয়ার মুখে তারা ট্রলারে করে আশুলিয়া ঘাটে আশ্রয় নেয়। সেখানেও পুনরায় হামলার শিকার হয়ে অনেকে নদীতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হয়। যদিও সুমনের বড় ভাইয়ের করা অপমৃত্যুর মামলায় বলা হয়েছে, নৌকা থেকে নামার সময় তাড়াহুড়ো করে পানিতে পড়ে গিয়ে সুমনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশি অভিযান, রাজনৈতিক মিছিল, আর প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান—সব মিলিয়ে তুরাগের এই ট্রলার ঘাট কেন্দ্রিক ঘটনাটি এখন এক ধোঁয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে