ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত জনপদ থেকে এক অভাবনীয় উদ্ধার অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের কংক্রিটের স্তূপের নিচে টানা ২৬ ঘণ্টা আটকা থাকার পর চার বছরের এক শিশুসহ একটি পরিবারকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এই ঘটনাকে স্থানীয়রা ‘অলৌকিক’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় ভেনেজুয়েলার সংশ্লিষ্ট এলাকাটির অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন আকস্মিক ভূমিকম্পে আবাসিক ভবনটি মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকা পরিবারটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে ধারণা করেছিলেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে প্রচণ্ড প্রতিকূলতা এবং অক্সিজেন স্বল্পতার মধ্যেও ধৈর্য ধরে টিকে ছিল শিশুসহ পরিবারটি। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে তাদের অবস্থানের সংকেত পাওয়ার পর দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তাদের নিরাপদে বের করে আনেন।
উদ্ধার হওয়ার পরপরই শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের নিকটস্থ ফিল্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পানির অভাব এবং মানসিক চাপের মধ্যেও তারা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছেন। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার সার্বিক পর্যবেক্ষণের জন্য নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার এই ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলেও, এই পরিবারের বেঁচে ফেরার খবরটি সাধারণ মানুষের মাঝে এক চিলতে আশার আলো নিয়ে এসেছে।
এদিকে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ডগ স্কোয়াড এবং থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ভেনেজুয়েলার এই সংকটে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে