প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে দেশের স্বার্থ রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২৭ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই সফরগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। তিনি বলেন, উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি সমাপ্ত মালয়েশিয়া এবং চীন সফর ছিল প্রধানমন্ত্রীর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সফরগুলো এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং দেশগুলো নতুন বাণিজ্য অংশীদার ও বিনিয়োগের উৎস খুঁজছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
সংসদকে অবহিত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনবে। অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বেইজিংয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনা অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি সহায়তা, যা দেশের ভৌত অবকাঠামোর আধুনিকায়নে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, এই সফরগুলো দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, “আমরা দেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। এই সফরগুলোর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সহজে প্রবেশ করতে পারবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বিশেষ করে কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চীনা বিনিয়োগ দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়ক হবে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখবে।
সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সফরগুলোর বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি প্রতিটি বৈঠকের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন এবং এর সম্ভাব্য সুদূরপ্রসারী সুবিধা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সরকার শুধু স্বল্পমেয়াদী লাভ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিয়েছে, যা দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য জরুরি। এই সফরগুলোর মাধ্যমে বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই চুক্তি ও সমঝোতাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন, যাতে এর সুফল দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তৃতার শেষে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর। এই সফরগুলো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যা একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে