মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা: ডাকযোগে দেরিতে আসা ব্যালট গণনার অনুমতি

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা: ডাকযোগে দেরিতে আসা ব্যালট গণনার অনুমতি

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি যুগান্তকারী রায়ে ডাকযোগে দেরিতে পৌঁছানো ব্যালট গণনার অনুমতি দিয়েছে, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ডাকযোগে ব্যালটের গুরুত্ব এবং গ্রহণযোগ্যতা পুনর্বার প্রতিষ্ঠিত করল। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছিলেন, দাবি করছিলেন যে এটি ব্যাপক জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অনুযায়ী, নির্দিষ্ট রাজ্যের আইন অনুযায়ী নির্বাচন দিনের পরেও ডাকযোগে প্রাপ্ত ব্যালটগুলো গণনা করা যাবে। যদিও নিউ ইয়র্ক টাইমস মিসিসিপির একটি নির্দিষ্ট আইনের কথা উল্লেখ করেছে, এই রায়কে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেরিতে আসা মেইল-ইন ব্যালটের বৈধতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের ফলে সেসব ভোটারের অধিকার সুরক্ষিত হলো, যাদের ব্যালট ডাক বিভাগের বিলম্ব বা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে ভোটগ্রহণের দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর পৌঁছায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটদানের প্রবণতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই এই পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেও তিনি এবং তার সমর্থকরা ডাকযোগে ব্যালট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদিও তার অভিযোগের সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার মতে, এই পদ্ধতি ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট করে এবং জালিয়াতির পথ খুলে দেয়।

মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় ডাকযোগে ব্যালট নিয়ে আইনি লড়াই নতুন নয়। বিভিন্ন রাজ্য তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী ডাকযোগে ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করে। ট্রাম্পের প্রচার শিবির এবং রিপাবলিকান দল প্রায়শই এই সময়সীমা কমানোর বা কঠোর করার চেষ্টা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, এবং এটি ভবিষ্যতে ভোটারদের জন্য আরও বেশি অ্যাক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি মূলত সেইসব রাজ্যগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা, যারা ডাকযোগে ভোটদানের সুযোগ প্রসারিত করতে চায়।

সিএনবিসি জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে “ব্যাপক ক্ষতি” (“tremendous loss”) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আবারও ভোটার আইডি বিলের পক্ষে তার অবস্থান জোরদার করেছেন, যা ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র প্রদর্শনের কথা বলে। এই বিতর্ক মার্কিন রাজনীতিতে ভোটাধিকারের সহজলভ্যতা বনাম নির্বাচনী সুরক্ষার দীর্ঘদিনের বিতর্কের একটি অংশ। ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত ভোটারদের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করার পক্ষে থাকলেও, রিপাবলিকানরা জালিয়াতি প্রতিরোধের নামে কঠোর নিয়মকানুন আরোপের পক্ষপাতী।

এই রায় কেবল দেরিতে আসা ব্যালট গণনার অনুমতিই দেয়নি, বরং এটি মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতা এবং আদালতের নিরপেক্ষতার উপরও আলোকপাত করেছে। এটি প্রমাণ করে যে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বৈধভাবে প্রদত্ত প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব রয়েছে। ভবিষ্যতে, এই রায় সম্ভবত ডাকযোগে ব্যালট সংক্রান্ত আরও আইনি চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করবে এবং মার্কিন নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি ভোটারদের আস্থা অর্জনে এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

এছাড়াও

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টাকে খারিজ করে দিয়েছে, যা সাবেক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *