ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বুধবার দিবাগত রাতে রাশিয়ার চালানো এক নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় আরও ৯১ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো এই আক্রমণকে শহরের ওপর চালানো এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ হামলা বলে অভিহিত করেছেন। কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকেই এখনো আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
হামলার ভয়াবহতা ছিল সুদূরপ্রসারী। কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বহুতল ভবন, একটি কিন্ডারগার্টেন এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনে আঘাত হানে। দারনিৎস্কি এলাকায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনীয় রেড ক্রসের একটি প্রধান গুদামও এই হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ড মূল্যের মানবিক ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ক্ষতি পুরো ইউক্রেনে তাদের জরুরি সহায়তা কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তার সতর্কবার্তা অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়নি। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত রাতে প্রায় ৫২ হাজার ৫০০ জন মানুষ মাটির নিচের স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। হামলার শিকার হওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, মস্কো দাবি করেছে যে রাশিয়ার অবকাঠামোতে ইউক্রেনীয় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা কিয়েভের একটি সামরিক কারখানায় এই হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেন এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিয়েভের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়া জেনেশুনে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার এই ধারাবাহিক হামলায় ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত ব্যবহার করা হয়েছে। যুদ্ধের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে এখনকার হামলাগুলো আগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং অধিক শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে এলাকাটিতে এখনো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন স্পষ্ট।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে