দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কলকাতার পর্যটন ও ব্যবসা খাতে এক বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। একসময় নিউমার্কেট, ধর্মতলা কিংবা পার্ক স্ট্রিটের দোকানগুলোতে বাংলাদেশি ক্রেতাদের যে সরগরম উপস্থিতি থাকত, তা এখন অনেকটাই ম্লান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাগুলো বর্তমানে টিকে থাকার লড়াই করছে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও কেনাকাটার উদ্দেশ্যে আসা পর্যটকদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খুচরা বিক্রেতারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশায় কলকাতার ব্যবসায়ীরা আশাবাদী। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে পর্যটন খাতের এই মন্দা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন। কলকাতার ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশের মানুষের কাছে কলকাতা কেবল ভ্রমণের জায়গা নয়, বরং এটি একটি প্রিয় গন্তব্য। ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সীমান্তে যাতায়াতের পরিবেশ অনুকূল হলে পর্যটকদের এই স্রোত আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, শুধুমাত্র কেনাকাটা নয়, কলকাতার স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপরও অনেক বাংলাদেশি নাগরিক নির্ভরশীল। নিয়মিত যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেক রোগী এবং তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিউমার্কেটের মতো ঐতিহ্যবাহী বিপণিবিতানগুলোতে বাংলাদেশি ক্রেতাদের অনুপস্থিতি ব্যবসার চাকা ধীর করে দিয়েছে। তারা আশা করছেন, দ্রুতই দুই দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সব ধরনের জটিলতা নিরসন হবে এবং পর্যটন শিল্পে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে।
বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ব্যবসায়ীরা সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। উভয় দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো মনে করে, পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেলে তা কেবল কলকাতার অর্থনীতি নয়, বরং সামগ্রিক আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, কবে নাগাদ ভিসা ও যাতায়াত সংক্রান্ত জটিলতাগুলো দূর হয়ে বাংলাদেশি পর্যটকদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হয়ে ওঠে কলকাতার রাজপথ ও বিপণিবিতানগুলো।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে