ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে কোনো জাতীয় দলের এমন করুণ দশা হতে পারে, তা হয়তো অনেকেরই কল্পনার বাইরে। আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল সেনেগাল বর্তমানে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে নামলেও, মাঠের বাইরের অব্যবস্থাপনা দলটিকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। জানা গেছে, ফেডারেশনের চরম অবহেলায় দলের খেলোয়াড়দের নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে খাবার কিনতে হচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া একটি দলের জন্য এমন পরিস্থিতি কেবল লজ্জাজনকই নয়, বরং খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই সংকটের মূলে রয়েছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। দলের প্রধান কোচ পাপে থিয়াও গত পাঁচ মাস ধরে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কোনো বেতন পাননি। ফেডারেশনের এমন উদাসীনতার পাশাপাশি দলের শেফ না থাকায় খেলোয়াড়রা হোটেলের নিম্নমানের খাবার গ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন, যা পেশাদার ফুটবলারদের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরকারি তহবিলের টাকা খরচ করে নিজেদের পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজকীয় ভ্রমণ করছেন, অথচ জাতীয় দলের ফুটবলারদের মৌলিক প্রয়োজনটুকু মেটাতে তারা ব্যর্থ।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন দেখা গেছে, সেনেগাল দল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তার অভাবে খেলোয়াড়দের আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এর আগে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনস চলাকালীনও কোচ থিয়াও এবং ফেডারেশনের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল, যেখানে ম্যাচ চলাকালীন মাঠ থেকে ওয়াক অফ করায় কোচ বিতর্কের মুখে পড়েন। বর্তমানে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট এই সংকট নিরসনের আশ্বাস দিলেও, ফেডারেশনের অনমনীয় মনোভাবের কারণে খেলোয়াড় ও কোচের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে সেনেগাল গ্রুপ পর্ব পেরোতে সক্ষম হলেও, প্রশাসনিক এই অস্থিতিশীলতা তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে কতদূর নিয়ে যাবে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে