পূর্বাচলে ডিএমপির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু: উদ্বোধন হলো বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প, দুই মাসের মধ্যে আসছে আরেকটি

পূর্বাচলে ডিএমপির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু: উদ্বোধন হলো বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প, দুই মাসের মধ্যে আসছে আরেকটি

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মেগা প্রকল্প ‘পূর্বাচল নতুন শহর’-এর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর অংশ হিসেবে বুধবার সকালে পূর্বাচলের ১ নম্বর সেক্টরে ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করা হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। রাজউক সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প চালুর মধ্য দিয়ে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ডিএমপির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও নিরাপদ নগরী হিসেবে পূর্বাচলকে গড়ে তুলতে এবং এখানকার বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বাহিনী বদ্ধপরিকর। এই উদ্যোগ প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে এবং মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ক্রমবর্ধমান এই আধুনিক উপশহরের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে একটি সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ডিএমপির অধীনে মোট চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র, দুটি police lines এবং তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয় স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

নিরাপত্তা কাঠামোর প্রশাসনিক অগ্রগতির বিষয়ে আইজিপি জানান, পূর্বাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই নতুন থানা ও তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছে। এই বিশাল নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তুলতে রাজউক বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে মোট ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির আইনি ও প্রশাসনিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে সম্পূর্ণভাবে ডিএমপির আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের (এডিশনাল কমিশনার) নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ বিভাগ গঠন করা হবে। এই প্রস্তাবিত বিভাগের জন্য প্রায় ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পূর্বাচল অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক সেবা প্রদান আরও সহজতর হবে।

প্রাথমিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পূর্বাচলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। যার প্রথমটি অর্থাৎ ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো। দ্বিতীয় ক্যাম্পটি প্রস্তাবিত পশি থানা এলাকায় নির্মাণাধীন রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই দ্বিতীয় ক্যাম্পটিরও উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইজিপি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজউকের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ফলে পূর্বাচল ও এর আশেপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং আবাসন প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ আরও ত্বরান্বিত হবে।

এছাড়াও

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের অটল অবস্থান: ধর্মের নামে উগ্রবাদ বরদাস্ত নয়, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের অটল অবস্থান: ধর্মের নামে উগ্রবাদ বরদাস্ত নয়, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ধর্মের নামে সংঘটিত যেকোনো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *