ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮ দিন বয়সী শিশু জুয়ান ডেভিডের উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি যেন এক পরম বিস্ময়। প্রকৃতির চরম রোষানলে যখন চারপাশ লণ্ডভণ্ড, তখন এই শিশুর বেঁচে থাকা যেন এক নতুন আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে দীর্ঘ সময় আটকা পড়ার পর যখন উদ্ধারকর্মীরা শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন, তখন সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের মানুষ একে ‘অলৌকিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উদ্ধারকৃত শিশুটির মা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের অন্ধকার ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে তিনি যখন মনোবল হারিয়ে ফেলছিলেন, তখন তার কোলের এই নবজাতকই তাকে বেঁচে থাকার অদম্য সাহস জুগিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম আমাকে বাঁচতে হবে, আমার সন্তানের জন্য। তার নিঃশ্বাস আমার হৃদস্পন্দনকে সচল রেখেছিল।’ ভেনিজুয়েলার দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে মা ও সন্তানের এই টিকে থাকার লড়াই মানবিক সাহসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভূমিকম্পের পর থেকে ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন অঞ্চলে ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য জোরদার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ থেকে এত ছোট একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকর্মীদের মাঝেও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। উদ্ধার পরবর্তী সময়ে শিশু জুয়ান ডেভিড ও তার মায়ের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের আনন্দ নয়, বরং ভেনিজুয়েলার সামগ্রিক জনজীবনে এক বড় অনুপ্রেরণা। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও প্রাণের এই জয়গান বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে মানবিক সংহতি ও আশার নতুন সঞ্চার করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ভেনিজুয়েলার সাধারণ মানুষের অদম্য ধৈর্য ও সাহসিকতা আজ প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে