প্রতিদিন সকালে চোখ মেলে তাকানো, এক গ্লাস পানি পান করার সামর্থ্য কিংবা পাশে থাকা প্রিয়জন—আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই স্রষ্টার অসীম অনুগ্রহে ঘেরা। অথচ ব্যস্ত জীবনের স্রোতে আমরা প্রায়ই এই ছোট ছোট বিষয়ের গুরুত্ব ভুলে যাই। একজন মুমিনের জীবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা কেবল একটি নৈতিক গুণ নয়, বরং এটি ইহকালীন ও পরকালীন সমৃদ্ধি অর্জনের এক অনন্য চাবিকাঠি। ইসলামি জীবনদর্শন অনুযায়ী, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রথমত, কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামত বৃদ্ধি পায়। পবিত্র কুরআনের সূরা ইব্রাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি নেয়ামত বাড়িয়ে দেবেন। মুফাসসিরদের মতে, এখানে রিজিক, মানসিক প্রশান্তি এবং ঈমানের দৃঢ়তা—সবকিছুরই বরকত বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ত, এটি সামাজিক সম্পর্ক মজবুত করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে মানুষের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়। মানুষের উপকারের স্বীকৃতি দিলে সমাজে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।
তৃতীয়ত, কৃতজ্ঞতা কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি জোগায়। একজন কৃতজ্ঞ মুমিন সুখের সময় যেমন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন, তেমনি বিপদের সময় ধৈর্য ধরে অটল থাকেন। চতুর্থত, এটি মানসিক প্রশান্তি আনে। অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করার কু অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে কৃতজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। নবীজি (সা.) পরামর্শ দিয়েছেন নিজের চেয়ে নিম্নবিত্তের মানুষের দিকে তাকাতে, যাতে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে না হয়।
পঞ্চমত, কৃতজ্ঞতা মানুষকে অহংকার থেকে দূরে রাখে। নিজের সব অর্জনকে স্রষ্টার দান হিসেবে স্বীকার করলে হৃদয়ে বিনয় জাগ্রত হয়, যা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম শর্ত। সর্বশেষ, কৃতজ্ঞতা মানুষকে পরকালের জন্য সচেতন করে তোলে। নেয়ামতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। কৃতজ্ঞতা কোনো সহজাত বিষয় নয়, বরং এটি চর্চার বিষয়। প্রতিদিন নিজের প্রাপ্তিগুলো নিয়ে চিন্তা করা এবং অন্যের উপকারের স্বীকৃতি দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে একজন মুমিন প্রশান্ত ও সন্তুষ্ট জীবন অতিবাহিত করতে পারেন।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে