ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে শিশুহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং আগ্রাসনের দায়ে কঠোর বিচার দাবি করেছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় তিনি এই দাবি জানান। ১৯৮১ সালে তেহরানে বোমা হামলায় নিহত ইরানের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ বেহেশতি এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা থেকে তিনি এই আহ্বান জানান।
খামেনির ভাষ্যমতে, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যে ভয়াবহ আগ্রাসন চালানো হয়েছে, তার দায় কোনোভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যগুলোই তাদের অপরাধের অকাট্য স্বীকারোক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। খামেনি জোর দিয়ে বলেন, এই অপরাধীদের কেবল অভ্যন্তরীণ আইনে নয়, বরং আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
উল্লেখ্য যে, খামেনির বার্তায় ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রসঙ্গটি উঠে আসে। এই সংঘাতের ভয়াবহতার অন্যতম প্রতীক হিসেবে তিনি ইরানের মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তাইয়্যেবেহ’ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার কথা উল্লেখ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যালয়টি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় শিক্ষকসহ ১৭৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যার অধিকাংশই ছিল কোমলমতি শিশু।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই বক্তব্য ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি শিশুহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে সামনে এনে বিশ্বজনমত তৈরির চেষ্টা করছেন। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে খামেনির এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়ে তিনি মূলত আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের এক কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছেন।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে