রাঙামাটির দুর্গম জলপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২৮ জুন, শুক্রবার সকালে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাপ্তাই হ্রদ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চালানটি আটক করে। উদ্ধারকৃত সারের মধ্যে ইউরিয়া ও টিএসপি জাতীয় সারের বড় একটি চালান রয়েছে, যা দেশের কৃষিখাতের চাহিদা মিটিয়ে চোরাকারবারিরা অধিক মুনাফার আশায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালান বন্ধে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোর থেকেই রাঙামাটির বিভিন্ন নৌ-রুটে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সন্দেহভাজন একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাকে থামানোর সংকেত দিলে পাচারকারীরা নৌকাটি রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে বিজিবি সদস্যরা নৌকা তল্লাশি করে বস্তাবন্দী অবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দকৃত আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালানি চক্র দীর্ঘদিন ধরেই নদীপথকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
উদ্ধারকৃত সারের বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত সারগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষি উন্নয়নের জন্য সরকার কর্তৃক ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহকৃত সার পাচারের বিষয়টি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত ও নৌ-পথ ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজিবি ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে চোরাচালানিরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের প্রতিটি অপচেষ্টা রুখে দিতে বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে