শোবিজ অঙ্গনে মাসুমা রহমান নাবিলা এক পরিচিত নাম। টেলিভিশনের পর্দায় সাবলীল উপস্থাপনা কিংবা বড় পর্দার গ্ল্যামারাস উপস্থিতি—উভয় মাধ্যমেই তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়। সম্প্রতি নীল হুরেজাহানের সঞ্চালনায় এক বিশেষ আলাপচারিতায় উঠে এসেছে নাবিলার কর্মজীবনের নানা দিক, যেখানে আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল তাঁর প্রিয় মাধ্যম কোনটি—অভিনয় নাকি উপস্থাপনা। ক্যারিয়ারের শুরুতে উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিলেও, পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।
আলাপচারিতায় নাবিলা জানান, উপস্থাপনা ও অভিনয়—দুটি ক্ষেত্রেই কাজের ধরণ ভিন্ন। উপস্থাপনা তাঁকে সরাসরি দর্শকদের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে, যা এক ধরনের তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। অন্যদিকে, অভিনয়ে তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভাঙার সুযোগ পান, যা একজন শিল্পী হিসেবে তাঁকে তৃপ্তি দেয়। বিশেষ করে ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর অভিনয়ে তাঁর প্রতি দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। তবে উপস্থাপনাকেও তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নাবিলা বরাবরই বেছে বেছে কাজ করতে পছন্দ করেন। জনপ্রিয় অনেক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা যেমন তাঁর ক্যারিয়ারের মাইলফলক, তেমনি বেছে নেওয়া হাতেগোনা কয়েকটি চলচ্চিত্রও তাঁকে দিয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। নীল হুরেজাহানের সাথে আড্ডায় নাবিলা অকপটে স্বীকার করেন, কোনো একটিকে শ্রেষ্ঠ বলা কঠিন। বরং কাজের মান এবং গল্পের গভীরতাই তাঁর কাছে সবসময় প্রাধান্য পায়। নাবিলা মনে করেন, একজন শিল্পী হিসেবে বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা চ্যালেঞ্জিং হলেও তা ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক।
পরিশেষে, নাবিলা তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ভালো চিত্রনাট্য পেলে অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা আছে তাঁর। একই সাথে উপস্থাপনার মঞ্চেও নতুন চমক নিয়ে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে, নাবিলা কেবল একজন উপস্থাপক বা অভিনেত্রী নন, বরং একজন পরিপূর্ণ পারফর্মার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই বহুমুখী পথচলা তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে