আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পথে রয়েছে বিজেপি। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বড়ো পরাজয়ের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।
সোমবার (৪ মে) ভোটের ফলাফল ঘোষণাকালে এই চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। গণনা শুরুর পর থেকে বিজেপি এককভাবে সেই সংখ্যা অতিক্রম করার পথে রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বড়ো ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। পরাজয় নিশ্চিত দেখে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোস্যালে একটি ‘জরুরি’ ভিডিওটি পোস্ট করেন।
‘জরুরি বার্তায়’ মমতা তার দলের প্রার্থীদের, এজেন্টদের ভোট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না যেতে অনুরোধ করেন। তিনি তার বার্তায় বিজেপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন।
মমতা বলেন, তৃণমূল যে আসনগুলোতে এগিয়ে আছে, সেগুলো বলা হচ্ছে না। পুরোপুরি মিথ্যা খবর খাওয়ানো হচ্ছে।
এবারের নির্বাচন ছিলো টানটান উত্তেজনার। বিশেষ করে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর অধীনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার পর এটিই ছিলো প্রথম নির্বাচন। লড়াইটি ছিল মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। এছাড়া কংগ্রেস-বাম জোট এবং তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন দলও এই রাজনৈতিক সমীকরণে যোগ দিয়েছিলো।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছিলো এবং বিজেপি ৭৭টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সেবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হলেও পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। তবে এবার শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি মমতার কেন্দ্র ভবানীপুরেই কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, যা এবারের গণনায় আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফালতাসহ বেশ কিছু বুথে পুনর্নির্বাচনও করতে হয়েছিল কমিশনকে। বুথফেরত জরিপগুলো কোনো দলের স্পষ্ট জয়ের আভাস দিতে না পারলেও, ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল বিজেপির অনুকূলেই যাচ্ছে। ১৫ বছর আগে বাম দুর্গের পতনের পর এবার তৃণমূলের শাসনের অবসান ঘটিয়ে গেরুয়া শিবিরের এই জয়কে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়ো ধরনের আদর্শিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে