দেশনেত্র প্রতিবেদক :
আগামী দুই মাসে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সঙ্কট হবে না এবং বর্তমানে জ্বালানির যথেষ্ট মজুদ রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ভর্তুকির চাপ সামলাতে ‘ফুয়েল কার্ড’ ও ‘ফুয়েল পাস’ চালুর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
মুখপাত্র জানান, ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশন— সোনার বাংলা ও ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটি দেশের প্রতিটি পাম্পে চালু করা হবে। এছাড়া ‘ফুয়েল পাস’ বর্তমানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকার দুটি স্টেশনে কাজ করছে, যেখানে মূলত মোটরসাইকেল চালকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই ফুয়েল কার্ডে তিনটি অংশ বা ‘পার্ট’ কার্যকর থাকবে।
জ্বালানির বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি তুলে ধরে মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বর্তমানে এক লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ মেট্রিক টন ডিজেল ও ৯ হাজার ৬৯ মেট্রিক টন অকটেন মজুদ আছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে পেট্রোলের বাজারমূল্য প্রতি লিটার ১৫৫ টাকা হওয়া উচিত হলেও সরকার তা মাত্র ১০০ টাকায় বিক্রি করছে। এর ফলে সরকারকে প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তবে মার্কেট ও অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে আনার ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, বুধবার ৩৬১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট অভিযানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৩৪২টি। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত মোট এক কোটি ৪৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বাজারে এলপিজির দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দাম বেশি নেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে