বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে যে ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা নিয়ে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের বিষয়টি নতুন নয়। নয়াদিল্লি বরাবরই তার নিকটতম প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতির গতিপ্রকৃতি এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভারত সবসময়ই নজর রাখছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের দীর্ঘমেয়াদী পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে এবং চীনের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগের প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও ঋণ সংক্রান্ত আলোচনা ভারতের নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। ভারত চায় না তার সীমান্তবর্তী এই দেশে এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হোক যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে চীন ও ভারত উভয় দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে, যার অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আলোচনা চলছে।
ভারত মনে করে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পুরো অঞ্চলের জন্যই ইতিবাচক। তবে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। এমতাবস্থায়, নয়াদিল্লি তার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে যাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তারা ঢাকা থেকে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে