বাংলাদেশে যাতে নতুন করে কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো দেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের বা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে উগ্রপন্থী ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হলি আর্টিজান হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর যেকোনো ধরনের গোপন তৎপরতা নস্যাৎ করতে গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সাইবার স্পেসের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে যাতে কোনো কুচক্রী মহল উগ্রবাদী আদর্শ ছড়িয়ে দিতে না পারে, সে জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে দেশের কারাগারগুলোতে থাকা সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি ও উগ্রপন্থীদের গতিবিধির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে অবৈধ অস্ত্র বা উগ্রপন্থীদের অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ রোধ করা যায়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে অংশীদারিত্বের বিষয়টিও এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকা বরাবরই প্রশংসিত। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও জাতিসংঘ এবং বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সাথে তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কেবল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেও সন্ত্রাসবাদের মূল উৎপাটন সম্ভব বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। এই লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদবিরোধী প্রচারণার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তরুণেরা যাতে বিভ্রান্ত হয়ে কোনো ধরনের উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত না হয়, সে জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুস্থ মানসিক বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন এবং নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সন্ত্রাসবাদমুক্ত সমাজ গঠন অপরিহার্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে দেশকে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করতে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে