যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা সহজীকরণে ঢাকার জোরালো আহ্বান

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা সহজীকরণে ঢাকার জোরালো আহ্বান

যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বিশেষ করে সামুদ্রিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক জাতি হিসেবে বাংলাদেশ তার দক্ষ ও অভিজ্ঞ নাবিকদের জন্য সুপরিচিত। দেশের অর্থনীতিতে এই নাবিকদের অবদান অনস্বীকার্য। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে আসে, যা জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রগামী জাহাজগুলোতে বাংলাদেশি নাবিকদের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং যুক্তরাজ্য বরাবরই তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান ক্ষেত্র। তবে, ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা প্রায়শই তাদের কর্মসংস্থানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ভিসা প্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ এবং এতে অনেক নথিপত্রের প্রয়োজন হয়, যা নাবিকদের জন্য ভোগান্তির কারণ। ভিসা পেতে দীর্ঘসূত্রিতা বাধার সৃষ্টি করে, অনেক সময় তাদের আন্তর্জাতিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় বা নতুন চুক্তিতে যোগ দিতে বিলম্ব হয়। এর ফলে শুধু ব্যক্তিগতভাবে নাবিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং দেশের সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনামও প্রভাবিত হয়। তিনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে একটি সুবিন্যস্ত এবং দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি চালু করার আহ্বান জানান, যাতে বাংলাদেশি নাবিকরা সহজেই যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, যুক্তরাজ্য বরাবরই বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার এবং ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে, সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান খাতে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি নাবিকরা কঠোর পরিশ্রমী, বিশ্বস্ত এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা মানদণ্ড সম্পর্কে সুপ্রশিক্ষিত। তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হলে তা শুধু বাংলাদেশি অর্থনীতির জন্যই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক শিল্পেও দক্ষ জনশক্তির সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি উভয় দেশের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন।

এই আহ্বানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার মূলত দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাইছে – প্রথমত, বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করা এবং দ্বিতীয়ত, তাদের কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক ও কার্গো জাহাজ পরিচালনার জন্য নিয়মিত নাবিকের প্রয়োজন হয়, এবং বাংলাদেশ এই চাহিদা পূরণে সক্ষম একটি দেশ। যদি ভিসা প্রক্রিয়া সরল করা হয়, তবে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি নাবিক এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনমান উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কূটনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই জোরালো আহ্বান ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবে এবং অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে – এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

এছাড়াও

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে

বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বন্দি বিনিময় চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *