অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শরীয়তপুরে মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল করেছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামীণ পাকা সড়কে এই ঘটনা ঘটে, যা দেশে চলমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। প্রায় ২৫-৩০ জন ব্যক্তি একটি ব্যানার হাতে নিয়ে এই মিছিলে অংশ নেন, যেখানে তাদের পরিচয় গোপন রাখতে মাস্ক ও হেলমেট পরা ছিল।
মিছিলের ব্যানারে লেখা ছিল— ‘অবৈধ আইসিটি ট্রাইব্যুনালের অন্যায়ের রায়ের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল; আয়োজনে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগ’। এই স্লোগান ও ব্যানার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের নামে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা অবিলম্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এই মিছিলের একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতা-কর্মী তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিও শেয়ার করেছেন, যা তাদের কার্যক্রমের প্রচার এবং জনসমর্থন আদায়ের একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার সময় সব ধরনের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। এমন পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের এই ধরনের কার্যক্রম সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগের এক নেতা প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছেন, পুলিশ এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে এবং তাদের কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং তথাকথিত ‘অবৈধ আইসিটি ট্রাইব্যুনালের অন্যায্য রায়’-এর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্যই তারা বিভিন্ন স্থানে মিছিল করছেন। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে তারা আত্মগোপনে থেকে ঝটিকা মিছিলের কৌশল অবলম্বন করছেন, যাতে দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিরাপদে সরে পড়া যায়।
উল্লেখ্য, গত এক মাসে শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অন্তত ১২টি মিছিল করেছেন। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদের অংশ। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনগুলো তাদের উপস্থিতি জানান দিতে এবং জনমতকে প্রভাবিত করতে তৎপর। এই ধরনের কার্যক্রম দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম প্রথম আলোকে জানান, আজ রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এমন কোনো সংগঠন মিছিল করেছে, এই তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তারা বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং আইন অমান্য করে যদি কেউ মিছিল করে থাকেন ও তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসি আরও জানান, এর আগে যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা যে, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে