ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যর্থতার গ্লানি ও তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ হং মিয়ুং-বো। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর থেকেই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ৫৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ফুটবলার। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এবং ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও’গ্লোবো’ জানিয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায় নেওয়ার পর থেকেই দেশটির ফুটবল অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার ধারণ করে যে, খোদ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে সরকারি তদন্তের নির্দেশ দেন। এই চাপে পড়ে হং মিয়ুং-বো নিজ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। তবে দায়িত্ব ছাড়লেও সমর্থকদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ—সর্বত্রই তাকে লক্ষ্য করে তীব্র সমালোচনা ও ঘৃণা প্রকাশ করা হচ্ছিল। এমনকি স্থানীয় অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে।
বিমানবন্দরে দলের সঙ্গে দেশে ফেরার মাত্র দুই দিন পরই তাকে দেশ ছাড়তে দেখা যায়। লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও তিনি প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন যে, খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো বিভেদ ছিল না। তবে তার এই দাবি সমর্থক ও সমালোচকদের মন ভরাতে পারেনি।
খেলোয়াড় হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা হং মিয়ুং-বো কোচ হিসেবেও ক্লাব পর্যায়ে দারুণ সফল ছিলেন। সেই সাফল্যের প্রত্যাশা নিয়েই তিনি জাতীয় দলের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের ব্যর্থতা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হয়ে রইল। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় এ বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করছে না। বিশ্লেষকদের মতে, একজন কোচের প্রতি এমন চরম অসহিষ্ণুতা ও প্রাণনাশের হুমকি ফুটবলের সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি সংকেত।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে