ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে দেশটিতে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা। তেহরানসহ পুরো ইরানে এখন শোকের ছায়া, তবে এই শোকের মধ্যেও দেশটির সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা প্রদর্শনের এক নতুন মাত্রা দেখা যাচ্ছে। রাজধানী তেহরানে খামেনির মরদেহ শায়িত রাখা হয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। এই বিশাল জনসমাগম কেবল শোক প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শোকানুষ্ঠানের মাঝেই ইরানের প্রভাবশালী সামরিক জেনারেলদের প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই আয়োজনের মাধ্যমে ইরান বিশ্ববাসীকে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি স্পষ্ট সংকেত পাঠাচ্ছে। বিশেষ করে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিপরীতে তেহরান যে অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে, তা এই দীর্ঘস্থায়ী শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় ফুটে উঠছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই ইরান এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই শোকযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর টিকে থাকার লড়াইয়ের একটি প্রতীক। তেহরানের রাস্তায় নেমে আসা জনসমুদ্র প্রমাণ করে যে, দেশটির শাসনব্যবস্থার প্রতি একটি বড় অংশের মানুষের সমর্থন এখনো অটুট রয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি নতুন কিছু নয়, তবে খামেনির বিদায়ে আয়োজিত এই মহাপ্রয়াণ অনুষ্ঠান দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে পুনরায় সংহত করার একটি কৌশলগত মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।
আগামী কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা এই শোকানুষ্ঠানে আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণে খামেনির পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন এবং ইরানের ভবিষ্যৎ পথচলা এখন বিশ্বের নজর কেড়েছে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে তেহরানের দিকে, যেখানে শোকের আবহেও সামরিক শক্তির প্রদর্শনী চলছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে