যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন না করার ঘোষণা ট্রাম্পের: বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন না করার ঘোষণা ট্রাম্পের: বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার শঙ্কা

বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তিটি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আকস্মিক ঘোষণাটি উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়, বরং এটি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক নতুন অনিশ্চয়তার দ্বার উন্মোচন করেছে।

গত কয়েক দশকে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণের মাধ্যমে যে অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল, তা এখন হুমকির মুখে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে কানাডা ও মেক্সিকোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে চুক্তির আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অতীতে নাফটা (NAFTA) চুক্তি বাতিল করে ইউএসএমসিএ প্রবর্তনের সময় ট্রাম্প যে সুর ব্যবহার করেছিলেন, এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তিনি মূলত মার্কিন উৎপাদন শিল্পকে সুরক্ষা প্রদান এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কানাডা ও মেক্সিকোর জন্য এই সিদ্ধান্ত এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মার্কিন বাজার তাদের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্য হওয়ায় এই চুক্তির অনিশ্চয়তা দেশ দুটির মুদ্রাস্ফীতি এবং শিল্প উৎপাদনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যে অটোমোবাইল, কৃষি এবং প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরা এই অনিশ্চয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মেক্সিকো ও কানাডার নীতিনির্ধারকরা এখন ওয়াশিংটনের সাথে নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি কেবল উত্তর আমেরিকার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বজুড়ে মুক্তবাজার অর্থনীতির যে কাঠামো বিদ্যমান, তা এই ধরনের সুরক্ষাবাদী নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি উত্তর আমেরিকার দেশগুলো পারস্পরিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন কোনো কার্যকর কাঠামো গড়তে ব্যর্থ হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়ম-কানুনের চেয়ে দ্বিপাক্ষিক দরকষাকষিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার একটি স্পষ্ট বার্তা। আগামী দিনগুলোতে কানাডা ও মেক্সিকোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এছাড়াও

ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা দুই বছরের শিশু ক্লেইবার মরান

ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা দুই বছরের শিশু ক্লেইবার মরান

ভেনেজুয়েলার বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই বছরের শিশু ক্লেইবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *