টেলিকম বাজেটে সাধারণ গ্রাহকের উপেক্ষিত হওয়ার শঙ্কা: সুবিধাভোগী কি কেবল গুটিকয় প্রতিষ্ঠান?

টেলিকম বাজেটে সাধারণ গ্রাহকের উপেক্ষিত হওয়ার শঙ্কা: সুবিধাভোগী কি কেবল গুটিকয় প্রতিষ্ঠান?

চলতি অর্থবছরের বাজেটে টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতের প্রস্তাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাজেটে যে কর-কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সুফল সাধারণ গ্রাহকদের চেয়ে মোবাইল অপারেটর ও নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের পকেটে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত ‘টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বিদ্যমান বাধাগুলো তুলে ধরেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেলিকম অ্যান্ড আইসিটি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের (টিআইপিএপি) আহ্বায়ক ও বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর। তিনি উল্লেখ করেন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার আমদানিতে কর কমানো ইতিবাচক হলেও স্মার্টফোনের ওপর ৬২ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে, যা ল্যাপটপের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী যেখানে কম্পিউটার নয়, বরং স্মার্টফোনের মাধ্যমেই ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করছে, সেখানে স্মার্টফোনের ওপর এই উচ্চ কর ডিজিটাল বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি অভিযোগ করেন, মূলত গুটিকয় বিদেশি স্মার্টফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার্থেই এমন বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, মোবাইল অপারেটররা তাদের জন্য বিভিন্ন কর-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলেও সাধারণ গ্রাহকদের খরচের বোঝা কমেনি। সিমের ওপর কর কিছুটা কমানো হলেও ডেটা ব্যবহারের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, একজন গ্রাহক প্রতি ১০০ টাকার টকটাইমের বিপরীতে সরকারকে যে পরিমাণ কর দেন, তা এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় অত্যধিক। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের ডিজিটাল সেবা পাওয়ার সক্ষমতাকে সংকুচিত করছে।

অন্যদিকে, স্টার্টআপ খাতের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উদ্যোক্তারা জানান, যদিও কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জটিলতা কাটিয়ে সুবিধা গ্রহণ করা স্টার্টআপগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং। এছাড়া সফটওয়্যার শিল্পের আয়কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ও খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য এই অব্যাহতির সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে সফটওয়্যার খাতে ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতা দূর করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি খাতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কেবল গুটিকয় প্রতিষ্ঠানের সুবিধা নয়, বরং সাধারণ গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়াও

যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে উচ্চমূল্যে ২.৭০ লাখ টন গম আমদানির অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে উচ্চমূল্যে ২.৭০ লাখ টন গম আমদানির অনুমোদন

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে মোট ২ লাখ ৭০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *