কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির জয়যাত্রায় এনভিডিয়া বর্তমানে বিশ্ববাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে। চিপ নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠানটির অভাবনীয় সাফল্যের পর ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা এখন নতুন কোনো ‘উইনার’ বা বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের সন্ধানে মরিয়া। এই অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মার্কিন মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রন টেকনোলজি। বিশ্লেষকদের মতে, এনভিডিয়ার অভাবনীয় উত্থানের পর পরবর্তী বড় চমক হতে পারে এই প্রতিষ্ঠানটি।
মাইক্রনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের এই বাড়তি আগ্রহের পেছনে প্রধান কারণ হলো তাদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি চিপ, যা এআই মডেলগুলোর প্রশিক্ষণের জন্য অপরিহার্য। বর্তমানের জটিল ও বিশাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাগুলো চালানোর জন্য যে পরিমাণ ডেটা প্রসেসিং ক্ষমতা প্রয়োজন, তা মেটাতে মাইক্রনের ‘হাই ব্যান্ডউইথ মেমোরি’ (HBM) প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ওয়াল স্ট্রিটের বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এআই অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যারের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে, আর এই চাহিদার যোগান দিতে মাইক্রন বর্তমানে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনভিডিয়ার মতো মাইক্রনও যদি তাদের উৎপাদন সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বজায় রাখতে পারে, তবে শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এনভিডিয়ার গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU) যেমন এআই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি, মাইক্রনের মেমোরি চিপগুলো তেমনি সেই বিপ্লবের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারীই মাইক্রনকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য হিসেবে দেখছেন।
অবশ্য প্রযুক্তিখাতের এই উত্থান-পতন অত্যন্ত গতিশীল। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাইক্রনের সম্ভাবনা যেমন উজ্জ্বল, তেমনি বৈশ্বিক চিপ বাজারের অস্থিরতা এবং সাপ্লাই চেইন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে সামগ্রিক বিচারে, এআই প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে মাইক্রন যে ওয়াল স্ট্রিটের নতুন আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। বিনিয়োগকারীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই প্রতিষ্ঠানটি এনভিডিয়ার পথ অনুসরণ করে বিশ্ববাজারে নতুন কোনো মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে কি না, তা দেখার জন্য।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে