দেশনেত্র প্রতিবেদক :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দেশে দীর্ঘ সময় ধরে চলা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয়।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে অভিযুক্ত সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের আনা হয় সবুজ রঙের অত্যাধুনিক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দেশের প্রথম ভিআইপি প্রিজন ভ্যানে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে দেশেই এই বিশেষ গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে।
ভিআইপি এ প্রিজন ভ্যানটির নকশায় রয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ভ্যানটিতে মোট তিনটি আলাদা কেবিন রয়েছে। প্রতিটি কেবিনে স্বাচ্ছন্দ্যে ১২ জন করে আসামি বসতে পারে। প্রয়োজনে একটি কেবিনে ১৫ থেকে ১৬ জনও রাখার ব্যবস্থা আছে। কঠোর নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রতিটি কেবিন আলাদাভাবে তালাবদ্ধ করা যায়।
সুবিধার দিক থেকে পুরো ভ্যানজুড়ে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এছাড়া, সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ড্রাইভিং কেবিনে চালক ও তিনজন পুলিশ সদস্যের জন্য রয়েছে আরামদায়ক আসন। সেখান থেকে মনিটরের মাধ্যমে ভ্যানের ভেতরের সব কার্যকলাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের সাহায্যে নিরাপত্তাকর্মীরা সরাসরি আসামিদের সাথে যোগাযোগও রাখতে পারবে।
প্রিজন ভ্যানটির মূল কাঠামো ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে দেশীয় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে। তবে গাড়িটির ইঞ্জিন ও চেসিস জাপানের বিখ্যাত ‘ইসুজু’ ব্র্যান্ডের। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হলেও গাড়িটির নকশা, সংযোজন ও প্রযুক্তিগত বাস্তবায়ন সম্পূর্ণরূপে দেশীয়ভাবে করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড (BMTF)-এর তৈরি দুটি ভ্যান প্রথম চালু হয় ২০১৭ সালে।একটি ভ্যান ১০ সিটের এবং এয়ার-কন্ডিশনিং সহ— যা বিশেষভাবে “ভিআইপি কয়েদি” পরিবহনের জন্য নির্ধারিত।অন্যটি হলো ৪০ সিটের ভ্যান, জনসাধারণ বা উচ্চ রিস্ক কয়েদিদের জন্য।
প্রতিটি ভ্যানে রয়েছে:
চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা (ভ্যানের ভেতরের পরিস্থিতি লাইভ মনিটরিংয়ের জন্য)।
GPS ট্র্যাকিং সিস্টেম, যাতে রিয়েল-টাইম অবস্থান দেখা যায়।
ওই দুটি ভ্যান সহ অনলাইন মনিটরিং সিস্টেমের জন্য মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ১.৭৫ কোটি টাকা ।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে