রেলে মৃত্যুর লাইন আর কত দীর্ঘ এবং কাদের হচ্ছে লাভ ক্ষতি?
সংগৃহীত

রেলে মৃত্যুর লাইন আর কত দীর্ঘ এবং কাদের হচ্ছে লাভ ক্ষতি?

মো: আল-আমিন:

বাংলাদেশের যেক’টি যাতায়াত মাধ্যম রয়েছে তাদের মধ্যে ট্রেনের যাত্রা অন্যতম । বাংলাদেশে প্রথম রেলওয়ে কার্যক্রম চালু হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে। ইস্টার্ন বেঙ্গল কোম্পানি রেলপথ স্থাপনের দ্বারা মানুষ ট্রেন যাত্রার সাথে পরিচিত হয়। সে সময়ে থেকে ট্রেন যাত্রা মানুষের জন্য ছিল স্বাচ্ছন্দ্যের ও নিরাপদের। বিশেষ করে ,গরিব- মধ্যবিত্তের জন্য ছিল খুবই উপকারী। স্বল্প খরচে পৌঁছাতে পারত বাড়ি। কিন্তু দিন-দিন এ ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। বর্তমানে ট্রেন যাত্রার কথা শুনলেই জনসাধারণের চোখে- মুখে আতঙ্কের ছাপ ফুটে উঠে।

২০২৩ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৯ টি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। কুচক্রী মহলের অমানবিক কর্মকাণ্ডের যাতাঁকলে পরে নিউজ অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের এবং আহত হয়েছে অনেক। এছাড়াও থাকতে পারে অসংখ্য নিহতদের ও আহতদের সংখ্যা। একেরপর এক ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা যেন নিত্যদিনের খবরে পরিণত হচ্ছে।

গত ২৮ অক্টোবর চারটি ট্রেনে আগুন ও রেললাইন কেটে ফেলা হয়েছে এবং ১৯ ডিসেম্বর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস আগুন এবং সর্বশেষ ৫ জানুয়ারী বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এতে করে মানুষের জান-মাল যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেভাবে দেশও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায় তাদের রেল থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করে কিন্তু বাংলাদেশে এর সম্পুর্ন বিপরীতে অবস্থান করছে । আয় থেকে ব্যয় অধিক।

গণমাধ্যম একটি কলামে বলা হয়েছে, রেলপথে প্রতি এক টাকা আয়ের জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে ৬ টাকা। ২০২০-২১ অর্থ বছরের আয় ১ হাজার ১৩ কোটি এবং ব্যয় ৬ হাজার ২৫ কোটি টাকা। আগের দু -অর্থবছরের চিত্র ও ভিন্ন নয় । ২০১৭-১৮ এবং ১৯-২০ আয় ও ব্যয় যথাক্রমে,১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা ১ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা আয় এবং ব্যয় ৫ হাজার ৮৮২ ও ৬ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা । ৩ অর্থবছরের ৩ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা আয় হলেও ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা।

এ হলো গত কয়েক বছরের হিসাব। কিন্তু বর্তমান অর্থবছরে এর থেকে কমপক্ষে ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে। কেননা অগ্নিসংযোগের কারণে যেসব রেলগাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এগুলোর লোকসান ও গুনতে হবে । এ হলো আর্থিক ক্ষতি।

বেনাপোল এক্সপ্রেসের ৫ বগিতে আগুন , মৃত বেড়ে ৪
সংগৃহীত ছবি

এছাড়া ১৯ জন নিহত এবং অনেকে আহত হলো । তাদের মধ্যে অনেকেই ছিল পরিবারের উপার্জন করার একমাত্র ব্যক্তি । এখন প্রশ্ন হলো, মানুষ আগুনে পুড়ে ছাই হবে আর অন্যরা দেখবে এর চেয়ে ন্যক্কারজনক নির্মম পরিহাস হতে পারে ? এ কেমন মানবতা ? কেউ কি আছে যে,তাদের পরিবারের আর্তনাদ শুনবে? বা তাদের পরিবারের সদস্যদের মুখে দুটো ডাল- ভাত দিবে ? নিশ্চয়ই উত্তরে সবাই পিনপতন নীরবতা অবলম্বন করবে। তাহলে তাদের পরিবারের যে,অভাবনীয় ক্ষতি হলো এর দায়ভার কে নেবে ? এ প্রশ্ন থেকেই যায়।

যারা এই কাজগুলো করে তাদের এ বিষয়টি জানা অত্যন্ত জরুরি যে, দেশের একটি সম্পদ ক্ষতি হলে সেটার দায়ভার প্রত্যেকটা জনগণের উপর পরবে। দেশের মাথাপিছু ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এ ক্ষতির ফল একা কেবল কোন রাজনৈতিক সংগঠন, সরকার বা শিল্পপতি একা বহন করবে না। সামষ্টিকভাবে সবার বহন করতে হবে। তাই সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি,আসুন আমরা সবাই নিজেরা নিজেদের ক্ষতি না করে সুষ্ঠু ,সুন্দর জীবন যাপন করার জন্য এ সমস্ত অমানবিক ও অযৌক্তিক কাজ করা থেকে বিরত থাকি । সরকারের এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আপনারা এসকল কর্মকাণ্ডের জন্য শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদেরকে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি দিন এবং জনগণকে সুস্থ -সুন্দর,নিরাপদ সফর উপহার দিবেন বলে প্রত্যাশা করছি ।

এছাড়াও

গুজব–ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না: সেনাপ্রধান

গুজব-ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না: সেনাপ্রধান

দেশনেত্র ডেস্ক : সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *