দেশনেত্র ডেস্ক :
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং ফিনান্সিয়াল পোস্টের প্রধান সম্পাদক এম এ আজিজ বলেছেন, বহু আগে, গত নির্বাচনের আগে যুগান্তরে লিখেছিলাম যে ভূ-রাজনীতির ফাঁদে বাংলাদেশ। আমার মনে হয়, সেটা এখন কার্যকর হতে যাচ্ছে। এখন পুরোপুরি ফাঁদে বাংলাদেশ পড়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা এবং ভারত তাদের টার্গেট অর্জন করতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বাংলাদেশে শান্তি আসতে দেবে না। আর্মিতে আমার আত্মীয়স্বজন ছিল, এখন নাই।
আমার কারণে, আমার গুণের কারণে প্রমোশন হয়নি, সবাই চলে গেছে। বিদেশে। কেউ বাইরে বিদেশি ফার্মে চাকরি নিয়েছে। যা-ই হোক, আর্মিতে সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটিটা মূল।
এম এ আজিজ, এখন যেটা হতে পারত সমাধান যে তাদেরকে আগেই কোর্ট মার্শালের নামে চাকরি টাকরি খেয়ে একটা কিছু সেটেল করে ফেলা উচিত ছিল। কারণ যারা ডিজিএফআই-এ আছে, প্রধানমন্ত্রী যা বলছে, তারা শুনতে বাধ্য হয়েছে। যারা হোম মিনিস্ট্রিতে ছিল, হোম মিনিস্ট্রি যা বলছে তা বলতে বাধ্য করেছে।
তারা তো এ কথাই বলবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা হচ্ছে ১৫ জন সার্ভিং সিনিয়র অফিসারের চাকরি গেছে এই মামলায় কেস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। এই ট্রাইব্যুনালে আইন করছে, যখনই ট্রাইব্যুনালে কেস উঠবে, কেউ কোনো চাকরি করলে তার সঙ্গে সঙ্গে চাকরি যাবে। শেখ হাসিনার সময়ে ট্রাইব্যুনাল করা, কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন হয়েছিল। একটা মব তৈরি করে আইন পরিবর্তন করে আপিল করার সুযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তাকে ফাঁসি দেওয়া হলো। ট্রাইবুনাল তো হলো সরকার যা চায়, সেইভাবে খেলে, সেইভাবে আইন করে। ট্রাইব্যুনাল তো পরেও আইন করছে, শেখ হাসিনার সময় করছে, এখনো করছে।
তিনি বলেন, যেমন এই যে চাকরি যাবে, এটা পরের ব্যাপার। এ আইনটা কি হোম মিনিস্ট্রি বানিয়ে দিয়েছে, না কেবিনেটে অনুমোদন হইছে? আমরা কিছু জানি না। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অর্ডারে হইছে। আমার কথা হচ্ছে যে ১৫ জন সার্ভিং জেনারেলের চাকরি চলে গেছে। তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে ক্লোজ করা হয়েছে, একজন এলপিআরে ছিল, আর বাকিরা বাইরে চলে গেছে ও যে উপদেষ্টা ছিল আর্মির, তিনি লন্ডনে আছে, আমি জানি। যে অপরাধী, তার বিচার হবে- এটা সত্য। কিন্তু আর্মি স্বাধীনতার-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। একসময় পুলিশ নষ্ট হয়ে গেছে। অর্ধেক পুলিশ স্টেশনের অস্ত্র লুট হয়ে গেছে, পুলিশ হত্যাও করা হয়েছে। এগুলোর তো বিচার হলো না। অর্থাৎ পুলিশ শেষ। এখনো পুলিশ সোজাভাবে দাঁড়ায়নি। এখন আর্মিটা ছিল। আর্মিটা তো তছনছ হয়ে গেল। দেশটা কার উপরে নির্ভর করে থাকবে?
এ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, আইসিটিতে মোট ১৬ জন সিনিয়র অফিসার- লেফটেন্যান্ট জেনারেল থেকে জেনারেল এই লেভেলে নিয়ে গেলেন। এখন এই ডিজিএফআইয়ের সদস্যদের ধরে নিয়ে সাক্ষী করতে পারতো যে আপনারা সাক্ষী দেন- আপনারা ডিজিএফআই ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে, আপনারা বলেন, কী করছেন? হত্যা করেছেন, গুম করেছেন, খুন করেছেন- এসব চার্জ নিয়ে আইসিটিতে জিজ্ঞেস করতে পারতো। এটা তো রেসপন্সিবিলিটি। আর্মি রুলসের তো রেসপন্সিবিলিটি প্রধানমন্ত্রীর। উনি তো অর্ডার ক্যারি আউট করছে। এখন অর্ডার ক্যারি আউট করলেও উনি অপরাধ করেছে। তার জন্য বিচার হওয়ার আগেই, সবকিছু হওয়ার আগেই, চাকরি খেয়ে দিলেন, তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ফেললেন। তাদেরকে আবার একদিকে সাবজেল বানিয়ে দিলেন অ্যাক্সিকিউটিভ অর্ডারে, এটা আবার কীভাবে হলো! কোর্টে তো যাবে। কোর্টে গেলে তার জামিন থাকবে কি, থাকবে না তাকে জেলে পাঠাবে না সাবজেল?
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা, বেগম জিয়া- তারাও তো সাবজেলে ছিল, তাই না? সেরকম কোর্ট ডিসাইড করে দিত। তখন এটা সাবজেল হতে পারত। এটা তো আমার কাছে মনে হচ্ছে, তাদের সুবিধা মতো একটা গেমের অংশ। এখন এই আর্মিকে টোটালি জিরো করে আনতে চায় যাতে কোনো প্রতিবাদী কণ্ঠই না থাকে এরকম একটা অবস্থায় এবং দেখেন আইসিটি ঘিরে সব জামায়াতের লোক।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে