দেশনেত্র ডেস্ক:
“আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে/ কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলে কখনো-বা/ একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়— ফুল নয়, ওরা/ শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ্, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।”
আবার এসেছে ফেব্রুয়ারি, অমর একুশের স্মৃতিবিজড়িত মাস। আজ প্রথম দিন। বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারি এলেই এখনো বাতাসে ভেসে আসে একুশের আনন্দ-বেদনামাখা উৎসবের সৌরভ। ফেব্রুয়ারি ও ভাষা আন্দোলন ঘিরে তাই এমনই গাঢ় থেকে গাঢ়তর বেদনার বোধ অনুরণিত হয়েছে কবি শামসুর রাহমানের কবিতায়। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অসংখ্য শহীদ বায়ান্নর ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে রচনা করেছিলেন এই অমর কবিতা। তাদের আত্মদানের মহান সংগ্রামের ফলেই বাংলা পেয়েছে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। আর এই একুশের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন বাংলাদেশ। এরপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন সারা বিশ্বে নানা পরিসরে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে এ মাসেই প্রতিবছর বাংলা একাডেমি চত্বরে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে বইমেলা, আমাদের প্রাণের মেলা। উৎসব আয়োজনে লেখক-প্রকাশকদের সরব পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে একাডেমি চত্বর। ভেসে আসে ভাঁজখোলা নতুন বইয়ের প্রাণজুড়ানো সুবাস। আজ বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৪’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ছোটন। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩ প্রদান করা হবে।