দেশনেত্র প্রতিবেদক :
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় এক নারী সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) র্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সনদ বড়ুয়া সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার হলেন- বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা গ্রামের বাসিন্দা প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশান (২৫), বরিশাল সদর উপজেলার চহটা গ্রামের বাসিন্দা মো. রাইসুল ইসলাম (২১) ও বরিশাল সদর উপজেলার রাজ্জাকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কাউসার হোসেন (২১)।
সনদ বড়ুয়া জানান, দুই এপ্রিল রাতে বনশ্রীতে ঘটে যাওয়া নারী হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। বিষয়টি র্যাব-৩ এর নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় রামপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে তাদের ধরতে অভিযান চলে।
গ্রেপ্তারদের রামপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
রামপুরা থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার (২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটা থেকে আটটার মধ্যে রামপুরা থানাধীন বনশ্রী ই-ব্লক ৩নং রোডের শেষ মাথার জুস দোকানের ভেতরে ছিলেন ওই ভুক্তভোগী তরুণী।
ভুক্তভোগীর বয়ান মতে, সেসময় অজ্ঞাতনামা এক লোক বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল দেখে আমি তার নিকট জানতে চাই আমাকে চেনে কি না? কেন তাকাচ্ছেন বারবার। এ কথা শুনে উনি উত্তেজিত হয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। এ কারণে আমি দোকান থেকে বের হয়ে আসি। আমি ও আমার ছোট ভাই ও বন্ধু দোকান থেকে বের হই।
বের হওয়ার পর ওই দোকানে অজ্ঞাতনামা দুজন প্রবেশ করে। খুব সম্ভবত ওই লোকের কাছ থেকেই তাকানোর বিষয়টি শুনে তারা আমার দিকে তাকালে কী হবে বলে টিজ করতে করতে দোকান থেকে বের হয়ে জিশানসহ অজ্ঞাতনামা দুজন আমার পথরোধ করে।
এটা দেখে আমার ছোটভাই তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। তখন তারা আমার ভাইকে থ্রেট দেওয়া শুরু করে এবং বলে যে, ‘বাসা কই, চল বাসায় যাই’। আমি তখন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বলতে থাকি যে, আমাকে টিজ করায় আমার ছোট ভাই সামনে আসছে, আপনারা সরেন, ওরা আরও উত্তেজিত হতে থাকে এবং আমার ভাইকে দুজন ফেলে মারতে শুরু করে। তখন আমি আমার ভাইকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে পেছন থেকে বিবাদী জিশান ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা এসে আমাকে চুল ধরে হ্যাচকা টান দিয়ে শ্লীলতাহানি করে ও আমার শরীরে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি দেয়।
অন্যদিকে আমার ভাইকে মারপিট করতে দেখে আমার বন্ধু মাশফিক ভিডিও করতে গেলে তাকেও এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। এরপর জিশানসহ অজ্ঞাতনামা দুজন ব্যক্তি আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া শুরু করে এবং আরও বলতে থাকে যে, ‘রেপ করসি?’, ‘হ দেখ রেপ করসি’।
ঐ সময় জিশান মোবাইল ফোনে ফোন করে আরও অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন লোক নিয়ে আসে। সবাইকে শনাক্তও করা যায়নি, জিশানসহ অজ্ঞাতনামা দুজন ব্যক্তি আমাদের ফোন ফেলে দিচ্ছিল বারবার লাথি দিয়ে। বলছিল কার কাছে যাবি যা? একজন বলল, ‘আমি আনন্দ টিভির সাংবাদিক, যা কার কাছে বিচার চাওয়ার চেয়ে নে’।
তখন এক বয়স্ক লোক এসে ওদের সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করে বলতে থাকে যে, ‘আমি সমিতির নেতা, সমাধান করে দিব।’ তখন আমি ও আমার ছোট ভাই চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে চলে যাই।