ইসলামাবাদ সফরে ইরানের স্পিকারকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল: চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ইসলামাবাদ সফরে ইরানের স্পিকারকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল: চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চলমান উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার একটি অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার জন্য আয়োজিত এই বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল, আর সেই সুযোগটিই কাজে লাগাতে চেয়েছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এই গোপন পরিকল্পনার বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিল। ইরানের শীর্ষস্থানীয় এই নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও ভয়াবহ রূপ দিতে পারত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা জিইয়ে রাখতে এই ধরণের গোপন অভিযান পরিচালনার প্রবণতা ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশ।

ইতিমধ্যে এই সংবাদের পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য ও জানাজাকে কেন্দ্র করে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তেহরানসহ পুরো ইরানে এখন এক শোকাতুর পরিবেশ বিরাজ করছে। খামেনির মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েলের এই কথিত ষড়যন্ত্রের ঘটনাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান অবিশ্বাসের দেয়ালকে আরও শক্ত করেছে। একদিকে যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে চলা এই ধরণের গোপন তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। ইসলামাবাদে হওয়া এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কতটা সক্রিয় এবং একটি ছোট ভুল বা ঘটনা কীভাবে পুরো অঞ্চলের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের নজর এখন ইরানের পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে, যা একই সাথে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়াও

মোনাকোতে বোমা হামলার রহস্য: ছদ্মবেশী ইউক্রেনীয় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ

মোনাকোতে বোমা হামলার রহস্য: ছদ্মবেশী ইউক্রেনীয় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ

বিলাসবহুল শহর মোনাকোতে সম্প্রতি সংঘটিত এক রহস্যময় বোমা হামলার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আইন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *