বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল আগামী এক বছরের মধ্যে স্মার্টফোন বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে অন্তত পাঁচটি নতুন আইফোন মডেল বাজারে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নিক্কেই এশিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বিশ্বজুড়ে যন্ত্রাংশের সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অ্যাপল তাদের বাজার দখল বাড়ানোর এই কৌশল থেকে সরে আসছে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা যায় এমন স্মার্টফোন উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। শুরুতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ ইউনিট উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও, বর্তমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরবরাহকারীদের ১ কোটি ফোল্ডেবল আইফোন তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই ফোল্ডেবল ডিভাইস উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আইফোন ১৮ এবং বহুল প্রতীক্ষিত ‘আইফোন এয়ার’ মডেল দুটি বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে মেমোরি চিপের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে শাওমি, অপো ও ভিভোর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১০ কোটির নিচে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। তবে অ্যাপল তাদের শক্তিশালী ক্রয়ক্ষমতা ও দর-কষাকষির দক্ষতার কারণে এই সংকট পরিস্থিতি বেশ দক্ষতার সাথে সামাল দিচ্ছে। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, চীনে বিক্রিত ডিভাইসের জন্য অ্যাপল স্থানীয় মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস (CXMT) এবং ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিসের (YMTC) সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এই প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের নজরদারিতে রয়েছে, তবুও সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক রাখতে অ্যাপল বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য যে, মেমোরি ও স্টোরেজের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অ্যাপল সম্প্রতি তাদের ম্যাকবুক ও আইপ্যাড সিরিজের দাম বাড়িয়েছে। তবে স্মার্টফোন বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তারা কোনো ছাড় দিতে নারাজ। অ্যাপলের এই আগ্রাসী পরিকল্পনা বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। যন্ত্রাংশের সংকট মোকাবিলায় অ্যাপল সফল হলে, স্মার্টফোন বাজারে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। এ বিষয়ে অ্যাপলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, তাদের বর্তমান উৎপাদন কার্যক্রম এবং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্মার্টফোন প্রযুক্তির নতুন যুগে অ্যাপল এক বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে