টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) আয়োজিত হয়েছে ‘সোশ্যাল বিজনেস ইনোভেশন সামিট ২০২৬’। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস (এসবিই) এবং ইউনূস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনটি তরুণ প্রজন্মের মাঝে সামাজিক ব্যবসার ধারণা ও উদ্ভাবনী চিন্তা প্রসারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি ও ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তরুণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বলিষ্ঠ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ড. মঈন খান বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে এনএসইউর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দায়িত্বশীল নাগরিক ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী সম্মেলনের সূচনা বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ও উদ্ভাবনের মেলবন্ধন অপরিহার্য। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং সৃজনশীল উপায়ে সামাজিক সমস্যার সমাধান খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন একটি চিন্তাধারা গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে তারা কেবল মুনাফা নয়, বরং সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে অবদান রাখতে পারে।
ইউনূস সেন্টার ও গ্রামীণ হেলথকেয়ার ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান প্রজন্ম অত্যন্ত সাহসী এবং তারা কোনো অন্যায়ের সাথে আপস করতে রাজি নয়। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের এমন ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে উৎসাহিত করেন, যা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, বৈষম্য দূরীকরণ এবং বেকারত্বমুক্ত বিশ্ব গঠনে সহায়ক হবে।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন এনএসইউর সহ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ আহমেদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা সামাজিক ব্যবসার গুরুত্ব, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব এবং তরুণদের মাঝে উদ্ভাবনী সংস্কৃতির বিকাশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই সম্মেলনটি কেবল এনএসইউর শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং সমগ্র দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে সামাজিক ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে