হলিউড তারকা এবং সফল প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী অ্যাশটন কুচার তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ‘সাউন্ড ভেঞ্চারস’ (Sound Ventures) থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রযুক্তি বিশ্বে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে তিনি ফেসবুকের সাবেক নির্বাহী এবং লিব্রা (Libra) প্রকল্পের অন্যতম রূপকার মর্গান বেলারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (VC) ফার্ম প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন। কুচারের এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি বিনিয়োগের বাজারে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
সাউন্ড ভেঞ্চারস মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) খাতের শীর্ষস্থানীয় ল্যাব এবং উদ্ভাবনী স্টার্টআপগুলোতে বড় ধরনের বিনিয়োগের জন্য পরিচিত ছিল। অত্যন্ত সতর্ক এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করার কৌশল প্রতিষ্ঠানটিকে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে। তবে কুচারের নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্যবস্তু কিছুটা ভিন্ন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিনি এবার এআই প্রযুক্তির ওপরের স্তরে নয়, বরং এর নিচের ভিত্তি বা অবকাঠামোগত স্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী। এর মধ্যে রয়েছে এআই প্রযুক্তির মূল শক্তি যোগানদাতা অবকাঠামো এবং শক্তি বা জ্বালানি খাত।
বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে বিপুল পরিমাণ ডেটা সেন্টার এবং উচ্চশক্তির প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। কুচার এবং মর্গান বেলার মনে করছেন, এআই মডেলগুলোর সাফল্যের পেছনে যে বিশাল অবকাঠামোগত চাহিদা রয়েছে, সেটিই আগামী দিনের প্রযুক্তির মূল চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা এআই ইকোসিস্টেমের মূল ভিত্তিগুলোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাশটন কুচার গত এক দশকে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এয়ারবিএনবি, উবার এবং স্পোটিফাইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে তার প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগ তাকে সিলিকন ভ্যালিতে একজন দূরদর্শী বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে, মর্গান বেলারের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত অন্তর্দৃষ্টি নতুন এই ফার্মটিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের মাধ্যমে কুচার কেবল বিনিয়োগই করবেন না, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের জ্বালানি এবং অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে চান। সাউন্ড ভেঞ্চারস থেকে বেরিয়ে আসার এই পদক্ষেপটি তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগের এই ধারা আগামী দিনে এআই শিল্পের বিকাশে এবং এর টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে