সৌদিতে প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জরুরি তাগিদ, সময়সীমা ২০২৬

সৌদিতে প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জরুরি তাগিদ, সময়সীমা ২০২৬

রিয়াদ: সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতিপত্র (স্থানীয় ভাষায় ‘রুখসা আমল’) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইস্যু কিংবা নবায়ন করার জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী কর্মীদের আইনি জটিলতা এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরির প্রবাসী কর্মীদের জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছেন সেসব কর্মী, যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইতিমধ্যে ১২ মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এছাড়া, যেসব কর্মী নতুন করে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন অথবা কোনো নতুন প্রতিষ্ঠানে স্পন্সরশিপ পরিবর্তন (কফলা বা ট্রান্সফার) করেছেন, কিন্তু ছয় মাস পার হওয়ার পরও তাদের অনুকূলে কোনো ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়নি, তাদের অবশ্যই ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

সৌদি আরব সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো দেশটির শ্রমবাজারে আইন ও বিধি মেনে চলার সংস্কৃতিকে আরও জোরদার করা। এছাড়া নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের পারস্পরিক চুক্তিভিত্তিক অধিকার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন নিশ্চিত করতেই এ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি শ্রমবাজারকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সৌদি শ্রমবাজারে নিয়মকানুন মেনে চলার প্রবণতা উন্নত করতে ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান ও কর্মী ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু এবং নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই ইতিবাচক সাড়াকে স্বাগত জানিয়ে সুযোগটি চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে ২০২৬ সালের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি সরকারের এই নতুন নির্দেশনার ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী উপকৃত হবেন, যদি তারা সময়মতো তাদের কাগজপত্র বৈধ করে নিতে পারেন। অনেক সময় নিয়োগকর্তাদের অবহেলার কারণে কর্মীরা অবৈধ হয়ে পড়েন। এই নির্দেশনার ফলে নিয়োগকর্তারাও আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়বেন, যা কর্মীদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে। রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের যেকোনো টেকনিক্যাল বা আইনি সহায়তার জন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের এই সময়ের মধ্যে তাদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন বা ইস্যু করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যথায় আকামা জটিলতা, জরিমানা বা দেশত্যাগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন প্রবাসীরা। উল্লেখ্য, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এবং সেখান থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা ও আইনি সহায়তা প্রদানে দূতাবাসগুলো আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

এছাড়াও

অবসরে যাচ্ছেন ‘ইন্টারনেটের জনক’ ভিন্ট সার্ফ, গুগল ছাড়ছেন আগামী সপ্তাহে

অবসরে যাচ্ছেন ‘ইন্টারনেটের জনক’ ভিন্ট সার্ফ, গুগল ছাড়ছেন আগামী সপ্তাহে

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘ইন্টারনেট’। আর এই ইন্টারনেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারীদের অন্যতম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *