বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘ইন্টারনেট’। আর এই ইন্টারনেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারীদের অন্যতম একজন, যাকে বিশ্ববাসী ‘ইন্টারনেটের জনক’ হিসেবে চেনে, সেই ভিন্ট সার্ফ (Vinton Cerf) অবশেষে দীর্ঘ কর্মজীবন থেকে অবসরে যাচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের ‘চিফ ইন্টারনেট ইভানজেলিস্ট’ পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন তিনি। তাঁর এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
ভিন্ট সার্ফ মূলত তাঁর সহকর্মী বব কানের (Bob Kahn) সাথে যৌথভাবে ‘টিসিপি/আইপি’ (TCP/IP) প্রোটোকল ডিজাইন করার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই প্রোটোকলটিই মূলত আজকের আধুনিক ইন্টারনেটের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে ডেটা বা তথ্য আদান-প্রদানের এই বৈপ্লবিক পদ্ধতি আবিষ্কারের ফলেই আজ বিশ্বজুড়ে নির্বিঘ্নে ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।
২০০৫ সালে ভিন্ট সার্ফ গুগলে যোগ দেন। গুগলে তাঁর পদবি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ—‘চিফ ইন্টারনেট ইভানজেলিস্ট’। এই পদে থেকে তিনি বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট প্রযুক্তির প্রসার, ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণ, ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তির নীতি নির্ধারণী বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
৮১ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে কম্পিউটিং জগতের নোবেল খ্যাত ‘টুরিং পুরস্কার’ (Turing Award), যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ এবং ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি অন্যতম। প্রযুক্তিবিদদের মতে, ভিন্ট সার্ফ কেবল একজন বিজ্ঞানীই নন, বরং তিনি ছিলেন মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্টারনেটের এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর।
গুগল থেকে তাঁর এই অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি বিশ্বে একটি বড় শূন্যতার সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে আনুষ্ঠানিক পদ ছাড়লেও ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মহাকাশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার (Interplanetary Internet) মতো দূরদর্শী প্রযুক্তি নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর বিদায়লগ্নে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমী ও সহকর্মীরা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে