অ্যানথ্রোপিকের ‘মিথোস’ ও ‘ফেবল’ এআই মডেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন ট্রাম্প

অ্যানথ্রোপিকের ‘মিথোস’ ও ‘ফেবল’ এআই মডেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের তৈরি অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘মিথোস’ (Mythos) এবং ‘ফেবল’ (Fable)-এর ওপর আরোপিত সমস্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে প্রযুক্তি খাতে নতুন এক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর অ্যানথ্রোপিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে তারা তাদের জনপ্রিয় ‘ফেবল’ মডেলটির ব্যবহারকারীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক মূলত তাদের নিরাপদ ও নৈতিক এআই উন্নয়নের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। প্রতিষ্ঠানটির ‘মিথোস’ এবং ‘ফেবল’ মডেল দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং জটিল ডেটা প্রসেসিংয়ের ক্ষমতাসম্পন্ন। পূর্বে জাতীয় নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা এবং নৈতিক ব্যবহারের অজুহাতে এই মডেলগুলোর বাণিজ্যিক ও সাধারণ ব্যবহারে কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে এআই খাতের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিশ্ব বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত আধিপত্য বজায় রাখার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল। বিশেষ করে চীনের মতো পরাশক্তিগুলোর সাথে এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মার্কিন প্রশাসন এখন দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণের বোঝা কমিয়ে আনছে। ট্রাম্পের নীতি মূলত ‘ডি-রেগুলেশন’ বা নিয়ন্ত্রণহীন মুক্ত বাজারের ওপর জোর দেয়, যা মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোকে বিশ্বমঞ্চে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা তাদের ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ মানের ও নিরাপদ সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে ‘ফেবল’ মডেলটির এক্সেস বা প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করা হবে। এর ফলে বিভিন্ন খাতের গবেষক, বিজ্ঞানী ও ডেভেলপাররা আবার এই শক্তিশালী এআই টুলটি ব্যবহার করে নতুন নতুন উদ্ভাবনে কাজ করতে পারবেন। তবে ‘মিথোস’ মডেলটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার কবে নাগাদ শুরু হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেমন প্রযুক্তিপ্রেমী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো একে স্বাগত জানাচ্ছে, অন্যদিকে এআই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কোনো প্রকার কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মডেলের উন্মুক্ত ব্যবহার ভুল তথ্য ছড়ানো বা সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে অ্যানথ্রোপিক আশ্বস্ত করেছে যে, তারা তাদের এআই মডেলগুলোর নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহারের বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে বৈশ্বিক এআই খাতের প্রতিযোগিতাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

এছাড়াও

সৌদিতে প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জরুরি তাগিদ, সময়সীমা ২০২৬

সৌদিতে প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জরুরি তাগিদ, সময়সীমা ২০২৬

রিয়াদ: সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতিপত্র (স্থানীয় ভাষায় ‘রুখসা আমল’) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *