হুমায়ুন কবির
এনসিপি থেকে ঢাকা-৮ আসনে রিক্সাচালক সুজনকে নমিনেশন দেওয়া—এটা নিঃসন্দেহে ভিন্নধর্মী ও আলোচনাযোগ্য একটি সিদ্ধান্ত। রিক্সাচালক সংসদে যাক, শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর সংসদে উঠুক—এতে আপত্তির কিছু নেই। বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচকও হতে পারে।
কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই—জুলাই চেতনা যদি আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের ভিত্তি হয়, তাহলে সেই চেতনার মানদণ্ড কোথায়?
সুজনের জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা কী ছিল?
শুধু একবার সালাম দেওয়ার মতো সামান্য উপস্থিতির ভিত্তিতেই যদি নমিনেশন পাওয়া যায়, তাহলে যারা সামনের সারিতে থেকে জুলাই আন্দোলনকে তীব্র করেছে, দিকনির্দেশনা দিয়েছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে—তাদের অপরাধ কী?
তাহলে কি এনসিপি-র কাছে যোগ্য প্রার্থীর অভাব দেখা দিয়েছে?
নাকি সংগঠনের ভেতরে মূল্যায়নের নতুন কোন অদৃশ্য মানদণ্ড তৈরি হয়েছে যেখানে ত্যাগের চেয়ে ‘প্রতীকী উপস্থিতিই’ বেশি মূল্যবান?
জুলাই আন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধারা কি তবে শুধু স্লোগান ও ত্যাগের গল্প হয়ে থাকবে, আর সিদ্ধান্তের টেবিলে বসবে অন্য কেউ?
জুলাই চেতনা মানে ছিল—ন্যায়, স্বচ্ছতা, ত্যাগের মূল্যায়ন।
সেই চেতনাকে আঁকড়ে ধরতে চাইলে প্রশ্ন তুলতেই হবে—
যোগ্যতার মূল্যায়ন কোথায়? এবং জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত যোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান কোথায়?
এই প্রশ্নের জবাব সময়ই দেবে, কিন্তু প্রশ্ন তোলার অধিকার আমাদেরই।
লেখক :হুমায়ুন কবির
কলামিস্ট /রাজনৈতিক বিশ্লেষক
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে