দেশনেত্র প্রতিবেদক :
রাজধানীর বিজয়নগরে সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউর ৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তার জ্ঞান কিছুটা ফিরেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যেম এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি, ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর গতরাতে হামলার পর এখন পর্যন্ত তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এখন তার কিছুটা হুঁশ ফিরেছে। সকলে তার জন্য দোয়া করবেন।
এর আগে, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসিসি) থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের ওসিসির এক চিকিৎসক জানান, ‘নুরুল হক নুরের নাক ও চোখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ওসিসিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে রেফার করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টা না গেলে তার অবস্থা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
এদিন রাত ১১টার দিকে আহত নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। এরপর রাত সোয়া ১১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং পরে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল দেখতে আসেন তাকে। কিন্তু আসিফ নজরুলের উপস্থিতিকে ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে অবরুদ্ধ করেন।
জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।
এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধাওয়া দিয়ে আল রাজী টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেওয়া গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখানে নুরুল হক নুর ও দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়, যার ফলে নুর গুরুতর আহত হন।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা পার্টি অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নুরুল হক নুর মারাত্মকভাবে আহত হন।’
এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।